একজন পতিতার ডায়েরি"
সারা রাত ঘুমাতে পারিনি
চোখ বুজতেই মেয়েটির চেহারা ভেসে উঠে!
রেল লাইনের বস্তির ধারে বসে
সিগ্যারেটের শরীরে চুমু দিই প্রিয়ার স্পর্শ লেগে থাকা ঠোঁটে।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে-
জীর্ণ কুটির থেকে জোনাকির মতোন কারা যেন
বেরিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরছিলো,
আমি নেশার ভিতরে একটু একটু খুঁজে নিচ্ছি জীবনের অমিয় সুখ।
হঠাৎ কারো অজানা স্পর্শে চমকে ওঠে পিছনে ফিরে দেখি
শ্যামবর্ণের একটি মেয়ে!
কোনো কিছু বলার আগে কাঁধে হাত দিয়ে বলল--
ভয় নেই,সূর্য ডুবলে এখানে অনেকে আসে
আর প্রভাতীর আলো স্পর্শ করার আগে বিশুদ্ধ নর হয়ে ফিরে যায়।
ভয়ার্ত কণ্ঠে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম--
কে তুমি? আমার কাছে কি চাও?
প্রত্যুত্তরে মেয়েটি বলল-
আমি ফুল,রাতে ক্ষনিকের গন্ধ বিলাই,
চলো আজ রাতে আমার গন্ধ নিবে।
এই বলে আমাকে পুরানো কাপড় চোপড়ে ঘেরা
অন্ধকার একটা ঘরে নিয়ে গেলো!
তৈলের একটা প্রদীপ আধো আধো জ্বলছে।
আমাকে বলল---
আজ রাতটা তোমার! মনের,শরীরের সব তৃষ্ণা মিটিয়ে ফেলো
আর যাওয়ার সময় শরীরে শরীর খেলার দামটা দিও।
নারীর ঘ্রাণের মাদকতায় মাতাল হয়ে আলতো করে
কপালে একটা চুমু এঁকে দিলাম!
মেয়েটির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো,
আমি নির্বাক হয়ে ভাবতে লাগলাম-পতিতার চোখে আবার কিসের জল!
মেয়েটি আমার হাত চেপে ধরে বলল--
কপালে চুমু দিওনা বুকের পাঁজর ভেঙে যায়;
আমি ততোক্ষণে বুঝে গেছি
ভালোবাসার নীল দহনে পোড়ে মেয়েটির হৃদয়
শ্মশান হয়ে গেছে কিন্তু স্মৃতিটাই আজো রঙিন।
চোখের জলের কারণ কি
জানতে চাওয়াতে মেয়েটি আমাকে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলো আর কান্নার স্বরে বলল-
আমিও তোমার মতোন কারো প্রেমিকা ছিলাম!
কেউ একজন আমার কপালে আলতো করে চুমু
দিতো।
আমার জানার আগ্রহ দেখে আমার হাতে
একটা ডায়েরি তুলে দিলো-
আর বলল-যদি সময় হয় আবার এসো।
বাসায় এসে বিকালে জানালার পাশে বসে
ডায়েরিটা খুলতেই একটা চিরকুট দেখতে পেলাম
যার মাঝে লেখা ছিলো---
প্রিয় রৌদ্র,
ভালোবাসার সমস্ত রঙে হৃদয় রাঙিয়ে তোমাকে
ভালোবেসে ছিলাম।জীবনের অনেকটা সময় সৎ মায়ের
নিষ্ঠুর অত্যাচারের মাঝে কেটেছে।
বাকীটা সময় তোমার ভালোবাসার স্বর্গীয় সুখে
কাটাবো বলে গৃহ ত্যাগ করেছিলাম।
সুখ তো কপালে ছিলো না কিন্তু এমন জীবন কখনো চাইনি,
তোমার ক্ষুধা মিটিয়ে পতিতালয়ে আমাকে
বিক্রি করে দিবে এতটা বিশ্বাসঘাতক মানুষ হয়
কখনো ভাবিনি।
এই জীবনের চেয়ে সৎ মায়ের অত্যাচার
অনেক ভালো ছিলো,এখানে রাতদিন নিস্তার মেলেনা,
এখানে দেহদান করে ভাত জুটে!
তোমাকে ক্ষমা করতে পারব কিনা জানিনা
তবে এতটা ভালোবেসে ছিলাম কখনো ঘৃণা করতে
হবে ভাবিনি।
ইতি
সেই হতভাগী
চিরকুট টা পড়ে দু'চোখের জল বাঁধা মানলো না,
পরদিন গেলাম সেই রেললাইনের বস্তির ধারে
যেখানে মেয়েটি কাঁধে হাত রেখেছিলো।
মেয়েটি আসবে এই ভেবে অপেক্ষায় ছিলাম
কিন্তু মেয়েটির আর আসেনি!
আরেকজন মেয়েকে জিজ্ঞেস করাতে বলল--
ঐ মেয়েটি বিষ খেয়ে মারা গেছে;
পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
দুর্বল চিত্তে ঐ জীর্ণশীর্ণ কুটিরে পা রাখতে
একটা সাদা কাগজ চোখে পড়ে-----
তাতে লেখা ছিলো-
তোমার জন্য দ্বিতীয়বার কারো প্রেমে পড়তে পারলাম না!
কারণ একজন পতিতা নিয়ে রাত কাটানো যায়
সংসার করা যায়না।
এ সমাজ পতিতাকে রাতে আঁধারে বুকে টানে
দিনের আলোয় ছড়ায় ঘৃণার বুলি!
এ সমাজ বড্ড অদ্ভুত!
রাতে শরীর খেলায় মাতে
আর দিবসের প্রথম প্রহরে বিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আসে।
Colleted