Friday, August 2, 2019

যিলহজ্জ শরীফ মাসের “প্রথম দশ দিন-রাত”-এর সীমাহীন ফযীলত।

যিলহজ্জ শরীফ মাসের “প্রথম দশ দিন-রাত”-এর সীমাহীন ফযীলত।
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ اَنْ يَّتَعَبُّدَ لَهُ فِيْهَا مِنْ عَشْرِ ذِى الْـحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَ قِيَامُ كُلّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ.
অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই যে দিন সমূহের ইবাদত মহান আল্লাহ পাকের নিকট যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয় বা পছন্দনীয়। যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১ম দশ দিনের প্রতি দিনের রোযার ফযীলত হচ্ছে ১ বছর রোযা রাখার সমপরিমাণ এবং প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে ক্বদরের রাতের ইবাদতের সমপরিমাণ।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
৯ যিলহজ্জ শরীফ যা ইয়াওমুল আরাফাহ বা আরাফা দিবস নামে মশহূর। এ দিন রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ اَبـِى قَتَادَةَ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ.
অর্থ : “হযরত আবূ ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আরাফাহ দিবসে রোযা রাখবে তার পিছনের এক বছরের এবং সামনের এক বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
বছরে পাঁচ রাতে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। তার মধ্যে দু’ঈদের দু’রাত। এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী, তাসবীহ পাঠ, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দুরূদ শরীফ ও যিকির-আযকার করে রাত অতিবাহিত করা অতি উত্তম। দিলের নেক মকছূদসমূহ মহান আল্লাহ পাকের নিকট জানালে মহান আল্লাহ পাক তা কবুল করবেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَبِى اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْعِيْدَيْنِ مُـحْتَسَبًا لِلّٰهِ لَـمْ يَـمُتْ قَلْبَهُ يَوْمَ تَـمُوْتُ الْقُلُوْبُ.
অর্থ : “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” (তবারানী শরীফ)
অর্থাৎ ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক ১০ দিনের ব্যাপারে ইরশাদ মুবারক করেন- وَالْفَجْرِ ﴿١﴾ وَلَيَالٍ عَشْرٍ ﴿٢﴾ وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ ﴿٣﴾
অর্থ : “শপথ ফজরের! শপথ দশ রাত্রির! শপথ তার, যা জোড় ও যা বিজোড়।” (সূরা ফজর শরীফ : আয়াত শরীফ ১-৩)
এখানে ফজর বলতে যিলহজ্জ শরীফ মাসের ফজর ওয়াক্তের কথা বলা হয়েছে। দশ রাত্রি বলতে যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০ দিনের কথা বলা হয়েছে। আর জোড় বলতে ১০ তারিখ অর্থাৎ কুরবানীর দিনকে ও বিজোড় বলতে ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনকে বুঝানো হয়েছে। যারা কুরবানী দেয়ার নিয়ত রাখেন, তাদের পক্ষে যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে এই চাঁদের ১০ তারিখ কুরবানী করা পর্যন্ত মাথার চুল, হাতের ও পায়ের নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ اُمّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا اسَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَاىَ هِلَالَ ذِى الْـحِجَّةِ وَاَرَادَ اَنْ يُّضَحّىَ فَلَا يَأْخُذْ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا مِنْ اَظْفَارِهِ.
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখলো এবং কুরবানী করার নিয়ত করলো, সে যেনো (কুরবানী না করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে।” (মুসলিম শরীফ)
মূলত ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই উক্ত আমল মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। আর এ ব্যাপারে দলীল হলো নিম্নোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা। যেমন বর্ণিত রয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُمِرْتُ بِيَوْمِ الْاُضْحِىَّ عِيْدًا جَعَلَهُ اللهُ لِـهٰذِهٖ الْاُمَّةِ قَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَايْتَ اِنْ لَـمْ اَجِدْ اِلَّا َمَنِيْحَةَ اُنْثٰى اَفَاُضَحّى بِـهَا قَالَ لَا وَلٰكِنْ خُذْ مِنْ شَعْرِكَ وَاَظْفَارِكَ وَتَقُصْ شَارَبَكَ وَتَـحْلَقْ عَانَتَكَ فَذٰلِكَ تَـمَام اُضْحِيَّتَكَ عِنْدَ اللهِ.
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমি কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ পাক উক্ত দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি একটি মাদী মানীহা (উটনী) ব্যতীত অন্য কোন পশু কুরবানীর জন্য না পাই, তাহলে উক্ত মাদী মানীহাকে কুরবানী করার ব্যাপারে আপনার কি মত? জবাবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না। আপনি উক্ত পশুটিকে কুরবানী করবেন না বরং আপনি কুরবানীর দিন আপনার (মাথার) চুল ও হাত-পায়ের নখ কাটবেন। আপনার গোঁফ খাট করবেন এবং আপনার নিম্নাংশের পশম কাটবেন, এটাই মহান আল্লাহ পাকের নিকট আপনার পূর্ণ কুরবানী অর্থাৎ এর দ্বারা আপনি মহান আল্লাহ পাকের নিকট কুরবানীর পূর্ণ ছওয়াব পাবেন।” (আবূ দাঊদ শরীফ)
উক্ত
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত কুরবানীর দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাকের নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে কুরবানীর পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাকের নিকট পৌঁছে যায়। (সুবহানাল্লাহ!) কাজেই আপনারা আনন্দচিত্তে কুরবানী করুন।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে- افضل العبادات يوم العيد عراقة دم القربات অর্থ : “ঈদের দিন রক্ত প্রবাহিত করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।” সুবহানাল্লাহ! সুতরাং দেখা যাচ্ছে যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০ দিনের ফযীলত অনেক বেশি, এর মধ্যে ১০ম দিনের ফযীলত আরো বেশি। তার মধ্যে ১০ দিন অর্থাৎ কুরবানীর দিন সর্বোত্তম আমল হচ্ছে কুরবানী করা। সুবহানাল্লাহ!!
পবিত্র হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, যারা কুরবানী করবে না, তাদের জন্যও যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নিজ শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি কুরবানীর ছওয়াব পাবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে- عَنْ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ الصِدّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَا عَمِلَ اِبْنُ اٰدَم مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ مِنْ اِهْرَاقِ الدَّمِ وَاِنَّهُ لَيَأْتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُوْنِـهَا وَاَشْعَارِهَا وَاَظْلَافِهَا وَاِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِـمَكَانِ قَبْلَ اَنْ يَّقَعَ بِالْاَرْضِ فَطِيْبُوْا بِـهَا نَفْسًا.
বিঃদ্রঃ আজ বাদ মাগরিব চাঁদ দেখা গেলে আজ রাতই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার পহেলা রাত শুরু হয়ে যাবে।

SUBSCRIBE OUR CHANNEL

 

0 comments:

Post a Comment